ঈদুল আযহায় মুক্তি পায় পাঁচ চলচ্চিত্র। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলো হচ্ছে- ‘সুড়ঙ্গ’, ‘প্রিয়তমা’, ‘লাল শাড়ি’, ‘প্রহেলিকা’ ও ‘ক্যাসিনো’। এর মধ্যে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে রায়হান রাফি নির্মিত ও আফরান নিশো অভিনীত সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’।ইতিমধ্যে ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়ে হলে দর্শকের উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে ভালো সিনেমাকে সবসময়ই গ্রহণ করেন সিনেমাপ্রেমীরা। নির্মাতা রায়হান রাফীর হাত ধরে অভিনেতা আরফান নিশো ‘সুড়ঙ্গে’র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক করে সফলতার ছাপ রেখেছেন। এখানেও যে তিনি তার দক্ষ অভিনয়ে  দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমাটির প্রতিটি চরিত্রেরই প্রাণ কেন্দ্র ছিল গল্প। এ সিনেমায় নিশোর বিপরীতে অভিনয় করেছেন তমা মির্জা। ওটিটি সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ দিয়ে নিজেকে অনেক আগেই মেলে ধরেছেন তিনি। এবার তারই রেষ দেখা গেল সিনেমাটিতে। প্রেম, রহস্য, বাস্তবতা আর জীবনের সত্য ঘটনাই ফুটে উঠেছে সুড়ঙ্গে। যদিও নতুন কিছু নয় এর আগেও একাধিক সিনেমার গল্পে এমনটার দেখা মিলেছে তবে, মাঝ পথে তা থেমে গিয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরেই নতুন করে বাংলা সিনেমার পাখা মেলেছে। অনবদ্য এই উড়াউড়ি চলুক এমনটাই চাচ্ছেন দর্শকরা।

স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুক্তির আগে থেকে আমরা ‘সুড়ঙ্গ’সিনেমাটির বেশি সাড়া পাচ্ছিলাম। টিকিটের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছিল। প্রথমে সব শাখা মিলে ‘সুড়ঙ্গ’র মোট শো ছিল ১৮টি। আগাম টিকিট ছাড়ার পর দর্শকের চাহিদার কারণে এখন সব শাখা মিলে ৩০টি শো করা হয়েছে। এমনকি ‘সুড়ঙ্গ’র দর্শক চাহিদার কারণে আমাদের সব শাখার হলিউড সিনেমারগুলোর সব শিডিউল বাতিল করে ‘সুড়ঙ্গ’র শো বাড়ানো হয়েছে।

বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি দেখতে আসা দর্শক বলেন, সুড়ঙ্গ সিনেমার ট্রেলারটা দেখে এতোটাই ভালো লেগেছে, যে পরিবারের ২০ জন সদস্যকে নিয়ে সিনেমাটি দেখতে এসেছি। আর আমি আফরান নিশোকে অনেক বেশি পছন্দ করি।

আরেক দর্শক বলেন, আমরা শাকিব খানের থেকে আফরান নিশোকে বেশি পছন্দ করি। শাকিব খানের সিনেমা নিয়ে আসলে কোনো এক্সাইটমেন্ট কাজ করে না। নিশোর অভিনয় সব সময় অনেক ভালো। ‘সুড়ঙ্গ’ দেখতে আসার একমাত্র কারণ ছিল নিশো। সিনেমায় তার কাছ থেকে যে রকম এক্সপেক্ট করেছিলাম, ঠিক সেরকমই পেয়েছি। একটা সাসপেন্স ছিল যে, কখন কী হবে বা এরপর কী হবে। তাই পুরো সিনেমা জুড়েই এক্সাইটমেন্ট ছিল।

অভিনেতার এক ভক্ত বলেন, আফরান নিশোর সিনেমা দেখার জন্যই কোনো কাজ রাখিনি। এবারের ঈদে এটাই আমার বেষ্ট ঈদ উদযাপন। পর্দায় নিশো একদমই ভিন্ন একটি চরিত্র নিয়ে এসেছেন। আমরা চাই আফরান নিশো চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করুক। আমরা তার সিনেমা দেখব।

আফরান নিশোর কাছে ঠিক যে রকম আশা করেছিলেন, সে রকমই পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ দর্শকরা। সেই সঙ্গে সিনেমার অ্যাকশন, সাসপেন্স, রোমান্সসহ সব গানগুলোও জায়গা করে নিয়েছে দর্শকহৃদয়ে।

অপরদিকে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাবনার রুপকথা সিনেমা হলে চলছে প্রিয়তমা সিনেমা। কিন্তু হলে দর্শকদের সাড়া কম। হলটির ম্যানেজার রাইহান হোসেন জানান, ভেবেছিলাম এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি ভালো চলবে। কিন্তু দর্শকদের তেমন সাড়া মিলছে না। কি কারনে দর্শকরা খুশি হচ্ছে না, সেটাই বুঝতে পারছি না। হলে ৩০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। দর্শকদের কোনো ভিড়ই নাই।

একই প্রসঙ্গে দিনাজপুর মর্ডান সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রেজা জানান, শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিয়তমা’ঈদে মুক্তির পর প্রথম তিনদিন সিনেমা চললেও এখন একেবারেই দর্শক নেই হলে। কারণ, হিসেবে অনেকেই জানান ঈদের ব্যস্ততা শেষে সবাই যার যার কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ায়, হলে দর্শক কমে গেছে। মাত্র ৩৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া সাড়া দেশের হলগুলোতেই কমবেশি দর্শক কমছে ‘প্রিয়তমার’। মূলত সিনেমাটিতে অ্যাকশন না থাকায় অনেক দর্শকই হলে যাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। আফরান নিশোর ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমাটি দেখার পর বেশিরভাগ দর্শকের আগ্রহ এই অভিনেতার পরবর্তী আরও সিনেমা দেখার। বলা চলে, প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেছেন এই তারকা।